Hot Posts

6/recent/ticker-posts

অবশেষে সব অস্থিরতা কাটিয়ে ব্যাংকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক, জমা পড়ল ৩০ হাজার কোটি টাকা

 


গত মাসে ব্যাংকিং খাতে দেখা দেওয়া অস্থিরতা কাটিয়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে আমানত বীমার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।


রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গত এক মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ফিরে এসেছে।’


গত মাসের অস্থিরতার সময়ে অনেক গ্রাহক বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।


গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমানত বীমার পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান গভর্নর।


তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশই ১০০% আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা দিতে পারে না, আমরাও পারি না। তবে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে ছোট আমানতকারীরা তাদের টাকা অবিলম্বে ফেরত পাবেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’


২০০০ সালের ব্যাংক আমানত বীমা আইন অনুসারে, প্রতি আমানতকারী সর্বাধিক ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষিত ছিলেন। ফলে কোনো ব্যাংক ব্যর্থ হলেও প্রতি আমানতকারী সর্বাধিক ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পেতেন।


গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।


তিনি স্পষ্ট করে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নির্দেশে কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়নি। 


এছাড়া, আগামী দশ দিনের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং পূর্বের নীতিমালা পর্যালোচনা করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ শুরু করবে। এই টাস্কফোর্স ব্যাংকিং খাতে পারিবারিক প্রভাব কমাতে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন।


এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বিষয়ে গভর্নর বলেন, এসএমই খাতে ঋণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। দেশের এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে দ্রুত এই তহবিল ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে।


এস আলমের সম্পদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এস আলমের সম্পদ কেউ কিনতে চাইলে, নিজ দায়িত্বে কিনতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং বেনামে ঋণ নিয়েছে তাদের দায় নির্ধারণের চেষ্টা করছি। তাদের সম্পদ বিক্রি করে এই দায় মেটানো হবে। এখন যদি কেউ সেই সম্পদ কিনে, তাহলে সেটি তাদের দায়িত্ব।’

Post a Comment

0 Comments