আগামী দুদিন (শনিবার ও রোববার) চট্টগ্রাম বিভাগের সব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, এবং লক্ষ্মীপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, ও গোমতী নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, তবে হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশব্যাপী এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢল বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে এবং আগামী দুদিন উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দুদিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের ফলে শহরের ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়ক ও সৈকত সড়কসহ অন্তত ৩৫টি উপসড়ক ডুবে গেছে এবং কয়েক শ দোকানপাটের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে সৈকত এলাকার হোটেল-মোটেল জোনের ১৮টি সড়কও ডুবে গেছে, এবং পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে কয়েক হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন।
টানা ১২ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন শহরতলির ঝিলংজার দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা এবং তিনজন উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিভীষণ কান্তি দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
0 Comments