কোচ এবং মেন্টর হিসেবে খালেদ মাহমুদ সুজনের সুনাম সর্বজনবিদিত। সংগঠক হিসেবেও তিনি সফল। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগকে নিজের মতো করে গড়ে তুলেছেন এবং বাংলাদেশের জন্য এনেছেন যুব বিশ্বকাপ ও যুব এশিয়া কাপের শিরোপা। খেলোয়াড়ি জীবন থেকে সংগঠক হয়ে ওঠা সুজন কেন এত বিতর্কিত? কেনইবা তাকে বিসিবি ছাড়তে হলো এমন সমালোচনার মুখে?


ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অনেকেই হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানেন। ঢাকার ক্লাবপাড়ায় সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি লিগ কাঠামো ধ্বংস করেছেন। তৃতীয় বিভাগ বাছাই থেকে প্রিমিয়ার লিগ পর্যন্ত বেশিরভাগ অনিয়মের সঙ্গে সুজনের নাম যুক্ত হয়েছে। ক্লাব সংগঠকরা দাবি করেন, অনেক বছর ধরেই উঠতি ক্রিকেটারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল সুজনের। রাজশাহীর বাংলা টাইগার্স একাডেমির ক্রিকেটারদের বয়সভিত্তিক দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তাঁর সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে অনিয়মের অভিযোগ এবং স্বার্থ সংঘাত।


গুঞ্জন আছে, সুজন এবং ইসমাইল হায়দার মল্লিকের ইশারায় অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। খেলোয়াড়দের অন্য ক্লাবে খেলতে দিতেন না, তাদের ঠিকমতো সম্মানীও দেওয়া হতো না। তিনি দুটি দল, আবাহনী ও শাইনপুকুর, নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং অন্যান্য দলগুলোর শক্তিশালী হয়ে ওঠার পথ রোধ করতেন।


অনেকের মতে, সুজনের কূটকৌশলেই তৃতীয় বিভাগ বাছাই লিগ বন্ধ করা হয়। এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগের কাঠামো ভেঙে ফেলার জন্যও মল্লিকের পরামর্শদাতা ছিলেন সুজন। জাতীয় দলের একজন সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, সুজন তার একাডেমির ক্রিকেটারদের বয়সভিত্তিক দলে পাঠাতেন এবং এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে।


সুজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে যে, তিনি আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি এবং কিউরেটরদেরও নিয়ন্ত্রণ করতেন। প্রতিপক্ষ দলের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের ব্যাপার। বিসিবি থেকে তার বিদায়ের পর, মোহামেডানের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম টিটু বলেছেন, দেশের ক্রিকেট যেন রাহুমুক্ত হলো।


আবাহনীর কোচ হিসেবে সুজনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি তার ক্ষমতা ব্যবহার করে লিগের বিভিন্ন নিয়ম ভাঙার পেছনে ছিলেন।