ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতাকে বিশ্লেষণ করে কৌশল নির্ধারণ করা একটি প্রাচীন রীতি। সফল দলগুলো সর্বদা এই বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, এবং আসন্ন বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট সিরিজের জন্য ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরও এর ব্যতিক্রম নন। ভারতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারতীয় দলের শীর্ষ খেলোয়াড়রা, যেমন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন, দুই ধরনের পিচে অনুশীলন করছেন—স্পিন ও পেস মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়কালে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সিরিজে বাংলাদেশের পেসাররা অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। তবে ভারতীয় দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে তরুণ পেসার নাহিদ রানা, যিনি তাদের জন্য সম্পূর্ণ অজানা প্রতিপক্ষ। নাহিদের বলের বাউন্স ও গতির সাথে মানিয়ে নিতে ভারতীয় শিবিরে পাঞ্জাবের ৬ ফুট ৪.৫ ইঞ্চি উচ্চতার পেসার গুরনুর ব্রারকে বিশেষভাবে আনা হয়েছে।
গুরনুর, যিনি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএল অভিজ্ঞ, নাহিদের মতোই লম্বা এবং গতিসম্পন্ন। তিনি নেট বোলার হিসেবে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির প্রস্তুতিতে সাহায্য করছেন। নাহিদ রানার বিশেষত্ব তার উচ্চতা, যা তাকে ব্যাটসম্যানদের জন্য বিপজ্জনক করে তোলে। তার উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি, যা তাকে অনেক উচ্চতা থেকে বল ছাড়তে সাহায্য করে এবং ব্যাটারদের বাউন্স ও লেংথ সামলাতে কঠিন করে তোলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তার পাঁচ উইকেট শিকারের ফলে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ভারতীয় দলের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে নাহিদ রানার বলের লেংথ ও বাউন্সের বিপরীতে প্রস্তুতি। ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট সিরিজের জন্য চেন্নাইয়ের পিচ সাধারণত স্পিন সহায়ক হলেও এবারে পিচের চরিত্রে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বোলিং বিভাগের নেতা জাসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের জন্য এমন পিচ তৈরি করা হতে পারে যেখানে পেসাররা সুবিধা পাবে, তেমনি স্পিনাররাও তাদের সেরাটা দিতে পারবে। এই পরিস্থিতিতে যদি নাহিদ রানা ফর্মে থাকেন, তবে তিনি ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য গুরনুরের মতো পেসারকে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই ভারতীয় দলের নতুন বোলিং কোচ মরনে মরকেলের যাত্রা শুরু হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই পেসার তরুণ পেসার আকাশ দ্বীপ ও যশ দয়ালের আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিতে মুখিয়ে আছেন। তার নেতৃত্বে তরুণ পেসাররা নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।
বুমরাহ ও সিরাজের মতো অভিজ্ঞ পেসাররা দলের দায়িত্ব ভাগ করে নিলে মরকেলের কাজ কিছুটা সহজ হতে পারে। স্পিন বিভাগেও ভারতের গভীরতা রয়েছে—রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা ও কুলদীপ যাদবের সঙ্গে মুম্বাইয়ের হিমাংশু সিং ও তামিলনাড়ুর এস অজিত রামও নেট বোলার হিসেবে থাকছেন।
অপরদিকে, বাংলাদেশও পাকিস্তান সিরিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ভারতের মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয় পেতে মুখিয়ে আছে। ১২টি টেস্ট খেলার পরও ভারতের বিপক্ষে জয়হীন থাকা বাংলাদেশ এবার ইতিহাস পাল্টানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, এবং ভারতের শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে জিততে তারা তাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।

0 Comments