বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের দেখতে বিভিন্ন হাসপাতালে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কাঁদেন নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ।


রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ড. ইউনূস। সভায় হতাহতদের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি কাঁদতে থাকেন।


মতবিনিময় সভা বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। সভায় ড. ইউনূসসহ অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিরা আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের অবস্থার খোঁজখবর নেন।


ড. ইউনূস জানান, "হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে আমি অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছি। একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে যে অবস্থায় রয়েছে তা দেখলে মন ভেঙে যায়। পা চলে গেছে, মাথার খুলি উড়ে গেছে।" তিনি বলেন, "নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম, কচি প্রাণগুলো কীভাবে আঘাত পেয়েছে। মাথার অর্ধেক নেই, গুলি মাথার ভেতর রয়ে গেছে।"


তিনি আরও বলেন, "রংপুরের হাসপাতালের এক্স-রে দেখার পর আমি বুঝতে পারিনি কী দেখানো হচ্ছে। শরীরে ছোট ছোট ফুটো, রাবার বুলেট নিয়ে সে বেঁচে আছে। যতবার দেখি, ততবার নতুন করে প্রতিজ্ঞা করি যে, তাদের স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করব।"


ড. ইউনূস বলেন, "আমাদের প্রতিজ্ঞা হলো, এ স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা। আমাদের যোগ্যতা বা ক্ষমতা না থাকলেও, আমরা এই কাজটি সম্পন্ন করব। আমি শুধু দেখতে পাই, এই দৃশ্য সবাই দেখছে না, যারা হাসপাতালে আসছে তারাই দেখছে। আমাদের এই ঘটনা সম্পর্কে মানুষকে জানতে এবং বোঝাতে হবে।"


উপদেষ্টা ড. ইউনূস কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "রংপুরে একজন তরুণ আমাকে বলল, সে সারাজীবন ক্রিকেট খেলতে চেয়েছিল। এখন তার পা কেটে ফেলেছে, তাকে প্রশ্ন করেছিল, 'আমি ক্রিকেট খেলব কীভাবে?'"


তিনি বলেন, "এমন দৃশ্য দেখে মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কীভাবে বাংলাদেশ বানিয়েছি যেখানে এতগুলো তরুণ জীবন চলে গেছে? আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হলো তাদের ত্যাগের মূল্য দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ করা।"


শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তায় অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, "যে কোনো পরামর্শে তুমি দিশেহারা হয়ো না। তোমাদের চিন্তা পরিষ্কার ও সঠিক—এটা মুঠো থেকে ছাড়বে না। যদি আমরা এই স্বপ্ন থেকে সরে আসি, আমাদের স্মরণ করিয়ে দেবে।"


তিনি আরও বলেন, "আজ পর্যন্ত ৫৩ বছরে এমন সুযোগ আর আসে নাই। তোমরা আমাদের এই সুযোগ দিয়েছ। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ থাকবে না।"


সভায় উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বন-পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।