প্রায় দশ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর, ভারতের সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির শর্তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ৫৫০ ডলারের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের (এমইপি) শর্ত বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে, মে মাসে পেঁয়াজের চালানের ওপর আরোপিত ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কও কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।


বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড এই সিদ্ধান্তের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মনে করা হচ্ছে, ভারতের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গত বছরের ডিসেম্বরে বর্ষা মৌসুমের পর দেশে পেঁয়াজের ঘাটতির আশঙ্কায় রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়, যা পরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে কিছু বন্ধুপ্রতীম দেশের কূটনৈতিক অনুরোধের ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।


এই নিষেধাজ্ঞার কারণে মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হন এবং বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ে। কৃষকরা সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত মে মাসে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও, প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৫৫০ ডলার এবং ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল।


শুক্রবার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় পেঁয়াজের রপ্তানি শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে দেয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত কয়েক মাসে পেঁয়াজের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে; বিশেষ করে জুলাই মাসে পাইকারি দাম ৮৮.৮ শতাংশ বেড়েছে এবং আগস্টে খুচরা দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।


এছাড়া, বাসমতি চালের রপ্তানির জন্য নির্ধারিত প্রতি টনের সর্বনিম্ন মূল্য ৯৫০ ডলার শর্তও বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এপিইডিএ) বাসমতি চালের রপ্তানি চুক্তি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।


ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পেঁয়াজ রপ্তানিকারী দেশ। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের পেঁয়াজের প্রধান ক্রেতা। অতীতে, পেঁয়াজের মূল্য নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে; যেমন ১৯৮০ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ‘পেঁয়াজের নির্বাচন’ মন্তব্য করেছিলেন।