হারের স্বাদ কতটা তেতো, তা বারবার অনুভব করেন আর্জেন্টাইনরা। যেমন, কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর প্রথম হার মেনে নিতে হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় অপরাজেয় থাকার পর গত বছর উরুগুয়ের বিপক্ষে হারের মুখোমুখি হতে হয়।
এবার কলম্বিয়ার কাছে ১২ ম্যাচের অপরাজিত ধারার অবসান ঘটল। এই সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তোলে। এতে করে বলা যায়, হার তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে ৭৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৭টি ম্যাচে হার মানতে হয়েছে।
তবে, ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কলম্বিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের পর গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিজের সংযম হারান। রেফারির শেষ বাঁশির পর মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বিতর্কিত আচরণ করেন। টেলিভিশন ক্যামেরাকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মার্তিনেজ কলম্বিয়ার ফুটবলারদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক হাত মেলানোর পর ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন। এ সময় ক্যামেরাটি সামনে পড়লে, তিনি সেটাকে থাপ্পড় মেরে ক্যামেরার লেন্স অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানায়, পেনাল্টির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন মার্তিনেজ, যা তার আচরণের পেছনের কারণ।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে মেসির অনুপস্থিতিতে নিকোলাস ওতামেন্দি কলম্বিয়ার দানিয়েল মুনোজকে চ্যালেঞ্জ জানান। মুনোজ বক্সের মধ্যে পড়ে গেলে, ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি (ভিএআর) দেখে চিলিয়ান রেফারি পিয়েরো মাজা পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, যা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।
মার্তিনেজ নিজেও তার পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন। নিয়মিতভাবে ক্লিন শিট (গোলহজম না করা) রাখেন, কিন্তু এদিন দুই গোল খেয়ে হতাশ হয়েছেন। পেনাল্টি আটকানোর বিশেষজ্ঞ মার্তিনেজ, এবার সফল হতে পারেননি।
পূর্বে, গত বছরের নভেম্বরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মারাকানায় আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের পুলিশ আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। সেই ম্যাচেও বিতর্কিত আচরণ করেছিলেন মার্তিনেজ, নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে গা হাতাহাতি করে আলোচনায় আসেন। বিশ্বকাপজয়ী এই গোলকিপার মাঠের বাইরেও নিয়মিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।

0 Comments